ইসরায়েলের নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। কিন্তু ভোট গণনায় এগিয়ে থেকেও এখনো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি তাঁর জোট। অর্ধেকের বেশি ভোট গণনার পরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে ছয় আসন পিছিয়ে রয়েছে তারা। ফলে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ ভোট গণনা করা হয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৫৬ শতাংশ। তবে ভোট গণনা এখনো শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি। দলটি পেয়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’ জোট ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।
সম্ভাব্য আসনসংখ্যার হিসাবেও এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর জোট। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে এই জোট ৫৫টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৯টি। এ ছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো ১৬টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে।
তবে এখানেই রয়েছে নেতানিয়াহুর বড় চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট, অর্থাৎ নেসেটের মোট আসনসংখ্যা ১২০টি। সরকার গঠন করতে হলে কোনো জোটকে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। সেই হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট এখনো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ছয় আসন পিছিয়ে রয়েছে।
ভোট গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে লিকুদ পার্টির ভোটের হারেও পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথম দিকে দলটির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। পরে তা কমে ২১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে। সর্বশেষ গণনায় দলটির ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৭ শতাংশে। অন্যদিকে, ভোট গণনা যত এগিয়েছে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির ভোটের হার তত বেড়েছে। ফলে ভোটের ব্যবধান এবং সম্ভাব্য আসনসংখ্যার হিসাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে আগ্রহ।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাকি ভোট গণনার পর কোন দল কতটি আসন পায় এবং নেতানিয়াহুর জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারে কি না। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা এখনো চলমান। তাই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে কোনো দল বা জোটের জয় নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। আর তাতেই ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে শুরু হতে পারে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।