প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৫০ টাকার খাবার খাওয়া নিয়ে মন্তব্য ঘিরে এবার রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতা। প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সমালোচনার বিপরীতে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু ব্যক্তির জীবনযাত্রার পরিবর্তন, বিলাসিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। প্রধানমন্ত্রীর খাবারের দাম নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে হামিম দাবি করেন, তারেক রহমান ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে মিতব্যয়ী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের হওয়ায় সাধারণ মানুষের বাস্তবতা বুঝতে হলে তাঁদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ১৫০ টাকার খাবার খেয়েও সঠিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, হঠাৎ জীবনযাত্রার মান বদলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু ব্যক্তির জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে—এমন অভিযোগ তুলে ছাত্রদল নেতা বলেন, আন্দোলনের আগে যাঁরা সাইকেলে চলাফেরা করতেন কিংবা সাধারণ জুতা কেনার সামর্থ্য রাখতেন না, তাঁদের কেউ কেউ অভ্যুত্থানের পর দামি গাড়িতে চলাফেরা ও ব্র্যান্ডের জুতা ব্যবহার শুরু করেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া, আগে আবাসিক হলের সাধারণ খাবার খেতে যাঁদের অসুবিধা হতো, তাঁদেরই পরে পাঁচ তারকা হোটেলে কফি পান করতে দেখা গেছে বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন হামিম। বন্যার ত্রাণের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য সংগৃহীত অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যুত্থানের আগে আর্থিকভাবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে থাকা কিছু ব্যক্তি পরে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহকারীদের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে যাচাই করা তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিজের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক উদাহরণও টেনে আনেন হামিম। তিনি সার্বিয়া ও নেপালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন দেশে ছাত্রনেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে রাজনৈতিক সমর্থন কমে যেতে পারে। ভবিষ্যতে সমালোচনা করার সময় বাস্তবতা ও যুক্তির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫০ টাকার খাবার খাওয়ার কারণে পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন এবং সে কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সেই মন্তব্যের জবাব থেকেই নতুন করে এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যাভ্যাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে পাল্টা দুর্নীতি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিয়ে অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বাইরে মূল বিষয় হলো, যেকোনো দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই এসব বিতর্কের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।