ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু সরকার গঠনে পরোক্ষ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে অতি-রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে)। তবে সরকারে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই দলটির।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ইউটিজে এমন সিদ্ধান্ত নিলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার অবসান ঘটতে পারে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অংশ না হয়েও সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখবে ইউটিজে। এ ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা প্রস্তাবিত কোনো আইনের বিপক্ষে ভোট না দিয়ে ভোটদানে বিরত থাকার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সরকারকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে দলটি।
চ্যানেল ১২-এর হিসাব অনুযায়ী, ইউটিজের সাতটি আসন বাদ দিলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬টি। বিপরীতে আইজেনকোটের বিরোধী জোটের আসন রয়েছে ৪৮টি। এ অবস্থায় নেসেটে আটটি আসন পাওয়া আরব রাজনৈতিক দল রাআমের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকোট।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাসের দাবি জানিয়ে আসছে ইউটিজে। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকার সেই দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় দলটির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে তারা।
অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের উদ্যোগে লিকুদ পার্টি ছাড়া অংশ নিতে রাজি নয় অতি-রক্ষণশীল শাস পার্টি। দলটির প্রধান আরিয়েহ দেরি এ বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের প্রশ্নে ইউটিজে ও শাস পার্টির মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। ইউটিজে বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখলেও লিকুদকে বাদ দিয়ে কোনো সরকারে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে শাস।
সূত্রের দাবি, আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাবে শাস পার্টির প্রধান আরিয়েহ দেরির সম্মতি নেই। ফলে ইসরায়েলের ২৬তম নেসেট নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সমীকরণে অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর অবস্থান নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলাফলে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর সমর্থন ও অবস্থান এখন বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, জেরুজালেম পোস্ট