গরু নেই, গোয়ালঘর নেই, এমনকি দুধ উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থাও নেই! অথচ কারখানায় তৈরি হচ্ছে দেখতে অবিকল আসল দুধ।

গরু ছাড়াই ‘আসল দুধ’ তৈরির কারখানা!

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:১২ সময় , আপডেট সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:১২ সময়

গরু নেই, গোয়ালঘর নেই, এমনকি দুধ উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থাও নেই! অথচ কারখানায় তৈরি হচ্ছে দেখতে অবিকল আসল দুধ। জেলি, সয়াবিন তেল, পানি ও চিনি মিশিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হচ্ছিল এই ভেজাল দুধ। আর সেই দুধই বাজারজাত করা হচ্ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এমন ভয়ংকর প্রতারণার সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুন পাড়া গ্রামে। শুক্রবার আবুল বাশার নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ কেজি সয়াবিন তেল এবং ৩২০ লিটার প্রস্তুত করা নকল দুধ। পরে জব্দ করা এসব সামগ্রী ধ্বংস করা হয়। জানা গেছে, জেলি, সয়াবিন তেল, পানি ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে মিশ্রণ তৈরি করতেন চক্রের সদস্যরা। এরপর সেই মিশ্রণকেই দুধের মতো রূপ দিয়ে বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হতো। অর্থাৎ, গরুর দুধ ছাড়াই চলছিল দুধ উৎপাদনের অভিনব প্রতারণা।


গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে নকল দুধ তৈরির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অনুরোধ জানানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, নকল দুধ উৎপাদনের দায়ে কারখানার মালিক আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


এ ছাড়া এই অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার দায়ে কর্মচারী সবুজ হোসেনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অভিযানে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুৎফুল কবির, উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে এই নকল দুধ তৈরির ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তার কারখানায় একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া গেছে। তবে এবারই প্রথম তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই দুধ পান করে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে অনেক শিশু।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানিয়েছেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা শিশুদের খাদ্যেও ভেজাল মিশিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া এই নকল দুধ কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে? কোন কোন প্রতিষ্ঠান এই দুধ কিনেছে, আর কত মানুষ অজান্তেই তা পান করেছেন? জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯