সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিনিয়ত নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে। ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে নিখোঁজ

তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কি মাদক কারবারি, নাকি পুলিশ!

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:১৩ সময় , আপডেট সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:১৩ সময়

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিনিয়ত নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে। ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে নিখোঁজ হলেন তিনি, আর শেষ মুহূর্তে সঙ্গে থাকা পরিচিত ব্যক্তিই বা কেন একা ফিরে এলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এবার শেষ সঙ্গীর বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।


বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিচিত ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে দীপ বারবার নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করছেন। এমনকি শুরুতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। সর্বশেষ জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছানোর পর পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তাহসিফ পানিতে পড়ে যান। তবে যাঁরা তাঁদের ধাওয়া করেছিলেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য ছিলেন, নাকি মাদক কারবারি কিংবা অন্য কোনো অপরাধী—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


তদন্তকারীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মাদক কেনাবেচার পরিচিত স্থান হিসেবে চিহ্নিত। ফলে ওই রাতে সেখানে মাদকসংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, কিংবা তাহসিফ ও দীপের কারও সঙ্গে এমন কোনো ঘটনার সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ঢাকা মহানগর উত্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া প্রতিটি তথ্য ও বক্তব্য নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেয় তদন্ত সংস্থাটি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজেও পাওয়া গেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফের বাসার গ্যারেজে দীপকে দেখা যায়। পরে তাঁরা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হন।


দীপের দাবি, মোটরসাইকেল মেরামত এবং একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পর তাঁরা নির্দিষ্ট এলাকায় যান। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে তিনি তাহসিফকে খুঁজে পাননি। পরে গভীর রাতে একাই বাসায় ফিরে যান। কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। যে স্থান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে। পাশাপাশি দীপের বক্তব্যের সঙ্গে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের অসংগতি তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।


তাহলে সেদিন রাতে আসলে কী ঘটেছিল? পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা কারা ছিলেন? তাহসিফ কীভাবে পানিতে পড়ে গেলেন? আর তাঁকে খুঁজে না পেয়েই কেন একা ফিরে এসেছিলেন দীপ? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে শেষ মুহূর্তের সঙ্গীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন—সবকিছু মিলিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯