কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত, কেউ দীর্ঘদিনের জটিল রোগে ভুগছেন, আবার কেউ প্রতিবন্ধী সন্তানকে সুস্থ করার আশায় খুঁজছেন শেষ ভরসা। চিকিৎসার নানা পথ পেরিয়ে এবার তাঁদের গন্তব্য নওগাঁর আত্রাইয়ের এক হুজুরের কাছে। রোগমুক্তির আশায় পানিপড়া নিতে শত শত নারী-পুরুষের এমন যাত্রাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সকাল থেকেই স্টেশনে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ট্রেনযাত্রীরা।
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব মানুষের অধিকাংশই নওগাঁর আত্রাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে জড়ো হয়েছেন। তাঁদের লক্ষ্য, সেখানকার এক হুজুরের কাছ থেকে রোগমুক্তির আশায় পানিপড়া সংগ্রহ করা। স্টেশনে আসা মানুষের মধ্যে রয়েছেন দীর্ঘদিনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ক্যানসার রোগী এবং প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আসা অভিভাবক। তাঁদের কেউ চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে, আবার কেউ পরিচিতজন ও প্রতিবেশীদের কথায় প্রভাবিত হয়ে পানিপড়ার আশায় ছুটছেন আত্রাইয়ে।
আমবাড়ী এলাকার ক্যানসার আক্রান্ত শফিকুল ইসলামও রয়েছেন এই যাত্রীদের মধ্যে। অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে স্টেশনে এসেছেন সুবেদ রায়। তাঁদের মতো অনেকেই রোগমুক্তির আশায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তবে এই অস্বাভাবিক জনসমাগমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিয়মিত ট্রেনযাত্রীরা। অতিরিক্ত মানুষের চাপে প্ল্যাটফর্মে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে ভোগান্তি। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, একটি রেলস্টেশনে এভাবে অতিরিক্ত মানুষের সমাগম হলে স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী জানান, গত কয়েক দিন ধরেই স্টেশনে এমন অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করছেন তাঁরা। আগত ব্যক্তিরা স্টেশন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তাঁরা ট্রেনে করে নওগাঁর আত্রাই যাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। একদিকে রোগমুক্তির আশায় মানুষের ছুটে চলা, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে শুধু পানিপড়ার ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ক্যানসারসহ জটিল রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিলম্বিত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।