ভারতের ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম ও সংশোধনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন।

ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ আজ, হতে পারে ১০ লাখ মানুষ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৫ সময় , আপডেট সময় : ১ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৫ সময়

ভারতের ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম ও সংশোধনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এই মহাসমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন বিরোধী নেতারা। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।


রোববার, ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে বিরোধী জোটের নেতাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টায় মিন্টো রোড-কনট প্লেস সংযোগস্থল থেকে শুরু হবে ‘চলো দিল্লি’ নামে প্রতিবাদ মিছিল। সেখান থেকে মিছিলটি রামলীলা ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। কর্মসূচি চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা খোলা বাসে করে মিছিলের নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।


সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। তবে দিল্লি পুলিশের ধারণা, এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। চেয়ার, মঞ্চ ও ব্যারিকেড স্থাপনের পর রামলীলা ময়দানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। বড় এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে ১৪টি নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দুই শতাধিক নিরাপত্তা ক্যামেরা, উড়ন্ত নজরদারি যন্ত্র এবং পুলিশ সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত বিশেষ ক্যামেরা।


এদিকে হাসপাতালমুখী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাবেশে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। এই মহাসমাবেশের ঠিক আগের দিন শনিবার বিরোধী জোটের নেতারা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে একটি প্রতীকী গণ-অভিশংসন অধিবেশনের আয়োজন করেন। সাবেক লোকসভা স্পিকার মীরা কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। তবে এটি ছিল প্রতীকী রাজনৈতিক কর্মসূচি, ভারতের সাংবিধানিক অভিশংসন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক অংশ নয়। 



বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধী জোটের এই আন্দোলন ভারতের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির এই মহাসমাবেশে কত মানুষের উপস্থিতি ঘটে এবং বিরোধীদের দাবির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন কী প্রতিক্রিয়া জানায়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯