বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া গ্যাসভর্তি বেলুন কীভাবে পৌঁছাল ভারতের আসামের একটি ধানক্ষেতে? আর সেই বেলুনের সঙ্গে বাঁধা ব্যানারে কেন লেখা রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী যুবদলের নাম? এমনই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলায়।
শুক্রবার নারায়ণপুর থানার অধীন লেতেকুজান গ্রামের একটি ধানক্ষেতে গ্যাসভর্তি কয়েকটি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের নাম ও প্রতীকসংবলিত একটি ব্যানার। স্থানীয় এক কিশোর সকালে পাশের মাঠে গরু চরাতে গিয়ে বেলুনগুলো দেখতে পায়। পরে বেলুনগুলো একটি বাঁধের কাছে নেমে এলে সে সেগুলো সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। ব্যানারটি দেখে বিস্মিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফ্লেক্সে ছাপানো ওই ব্যানারে লেখা ছিল, জাতীয়তাবাদী যুবদলের মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছাবার্তা। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবিও ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসীর মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঢালপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে বেলুন ও ব্যানারটি নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এদিকে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের দলীয় ব্যানারসংবলিত বেলুন ওড়ানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব বেলুনের কোনোটি বাতাসের প্রবাহে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আসামে পৌঁছে থাকতে পারে। তবে বেলুনগুলো ঠিক কোথা থেকে উড়েছিল, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন বেলুনগুলো কীভাবে এত দূরের পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের লখিমপুরে পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশের বেলুন ভারতের ধানক্ষেতে পাওয়া যাওয়ার ঘটনাটি তাই দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।