ইউক্রেনের রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে অবশেষে শেষ হয়েছে স্থানীয় যুদ্ধবিরতি। প্রায় ছয় দিন ধরে কার্যকর থাকা এই

ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৬ সময় , আপডেট সময় : ২ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৬ সময়

ইউক্রেনের রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে অবশেষে শেষ হয়েছে স্থানীয় যুদ্ধবিরতি। প্রায় ছয় দিন ধরে কার্যকর থাকা এই যুদ্ধবিরতি ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে দীর্ঘ স্থানীয় বিরতি। কিন্তু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় শহরটিতে আটকে পড়া হাজারো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


রোববার, ১ নভেম্বর রাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা। দেশটির মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস জানান, গত ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ওলেশকি শহরকে ঘিরে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই রুশ বাহিনী খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরটি দখলে নেয়। শহরটি নিপার নদীর বাম তীরে অবস্থিত, যার বিপরীত পাশে রয়েছে খেরসন শহর। একই বছরের নভেম্বরে ইউক্রেনীয় বাহিনী খেরসন শহর এবং নদীর পশ্চিম তীরের কিছু এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হলেও ওলেশকি রুশ নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।


দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে শহরটির বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে এখনো প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং যারা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, ওলেশকিতে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই উদ্যোগে ইউক্রেনের পক্ষে সমন্বয় করেন মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস এবং রাশিয়ার পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন দেশটির মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা।


সমঝোতার আওতায় শুধু যুদ্ধবিরতিই নয়, বরং শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, চলাচলের পথ থেকে মাইন অপসারণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত এলাকায় দুই পক্ষই সমঝোতা মেনে চলছিল। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ নিরাপদ করতে মাইন অপসারণের কাজও শুরু হয়েছিল।


তবে এখন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ওলেশকিতে আটকে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে কীভাবে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো হবে? যারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শহর ছাড়তে চান, তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগই বা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর শহরটির মানবিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে থাকা ওলেশকির বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯