বিশ্বব্যাপী এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। বছরে মাত্র দুবার প্রয়োগযোগ্য এইচআইভি প্রতিরোধী ইনজেকশন ‘লেনাকাপ্যাভির’-এর কম দামের জেনেরিক সংস্করণ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এর ফলে বিশ্বের ১২০টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে স্বল্প খরচে ওষুধটি সরবরাহের পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার সকালে ওষুধটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং এর উন্নয়নে সহযোগিতাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে এ ঘোষণা দেয়। নতুন জেনেরিক সংস্করণটির বার্ষিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪০ মার্কিন ডলার। যা বর্তমানে ব্যবহৃত দৈনিক এইচআইভি প্রতিরোধী ট্যাবলেটের খরচের কাছাকাছি।
সুবিধা ও কার্যকারিতার বিবেচনায় নতুন ইনজেকশনটি প্রতিদিন ওষুধ সেবনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিয়মিত ট্যাবলেট গ্রহণে অনেকের অনিয়ম হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। অন্যদিকে, লেনাকাপ্যাভির বছরে মাত্র দুবার গ্রহণ করতে হয়। ফলে প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘ সময় সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় নতুন এই ওষুধের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রায় শতভাগ সাফল্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ইউনিটেইডের এইচআইভি বিভাগের প্রধান কারমেন পেরেজ কাসাস বলেন, নতুন এই ওষুধ বিশ্বজুড়ে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও আশাবাদী করে তুলেছে। তাঁর মতে, সাশ্রয়ী প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাটি সংক্রমণ ও এই রোগের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করেছেন। একই সময়ে এ রোগসংশ্লিষ্ট জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।
ক্লিনটন হেলথ অ্যাক্সেস ইনিশিয়েটিভের এইচআইভি কর্মসূচির প্রধান ক্যারোলিন আমোল জানান, উন্নতমানের ও সাশ্রয়ী জেনেরিক সংস্করণ সহজলভ্য হওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস বা প্রিপ (PrEP) চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন অন্তত ২ কোটি মানুষের কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ব থেকে এইচআইভি মহামারি নির্মূলের প্রচেষ্টায় বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আপাতত কম দামের জেনেরিক সংস্করণটি বিক্রির সুযোগ নেই। মূল ওষুধের উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেসের পেটেন্ট অধিকার বহাল থাকায় দেশটিতে তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘ইয়েজতুগো’ বাজারজাত করা হচ্ছে। এই ব্র্যান্ডের ওষুধটির বার্ষিক তালিকামূল্য ২৮ হাজার ২১৮ মার্কিন ডলার।
এদিকে বিশ্বজুড়ে ওষুধটির ব্যাপক চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত থাকায় গত বছর গিলিয়াড সাব-সাহারান আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার নির্দিষ্ট কিছু দেশে জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদনের অনুমতি দেয়। এ লক্ষ্যে ছয়টি জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়্যালটিমুক্ত চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।