মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন? পাত্রের ভালো চাকরি, আয়-রোজগার কিংবা সামাজিক অবস্থান দেখেই কি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত? নাকি

সুদের সঙ্গে জড়িত পাত্রের কাছে মেয়ের বিয়ে: ইসলাম কী বলে?

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২০ সময় , আপডেট সময় : ৩ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২০ সময়

মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন? পাত্রের ভালো চাকরি, আয়-রোজগার কিংবা সামাজিক অবস্থান দেখেই কি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত? নাকি তার উপার্জন হালাল কি না, সেটিও হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয়? বিশেষ করে কোনো পাত্র সুদভিত্তিক পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলে, তার কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ? এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।


ইসলামে সুদকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, তিনি ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। শুধু সুদ গ্রহণকারী নয়, সুদের লেনদেনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কেও কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং সাক্ষীদের ব্যাপারে অভিশাপের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তি সুদের সঙ্গে জড়িত থাকলেই তার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের আকদ বাতিল হওয়ার বিষয়টি এক, আর পাত্রের সুদি পেশায় জড়িত থাকা আরেক বিষয়। তবে পাত্র সুদের নিষেধাজ্ঞা জানার পরও যদি সেই পেশায় অবিচল থাকেন এবং তা ছাড়তে রাজি না হন, তাহলে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে মেয়ের দ্বীন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ পারিবারিক জীবনের কথা বিবেচনা করে এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করাকে অধিক সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইসলামে পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পদ, চাকরি কিংবা সামাজিক মর্যাদার চেয়ে দ্বীনদারি ও চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, এমন পাত্র বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে সন্তুষ্ট হওয়া যায়, তার সঙ্গে বিয়ে দিতে। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি অতীতে সুদের কারবারে জড়িত থাকলেও যদি আন্তরিকভাবে তওবা করে সেই পথ ছেড়ে দেন এবং হালাল উপার্জনের চেষ্টা করেন, তাহলে শুধু অতীতের কারণে তাকে চিরদিনের জন্য অযোগ্য মনে করা ঠিক নয়। কারণ ইসলামে তওবা ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত।


এ ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—বিয়ের সিদ্ধান্তে মেয়ের স্পষ্ট সম্মতি থাকতে হবে। অভিভাবকরা পাত্রের দ্বীনদারি, চরিত্র ও উপার্জনের উৎস যাচাই করবেন, পাশাপাশি মেয়ের মতামতকেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। সব মিলিয়ে, সুদি পেশায় জড়িত ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে শরিয়ত অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল নয়। তবে জেনেশুনে সুদের কারবার চালিয়ে যাওয়া পাত্রকে জামাতা হিসেবে গ্রহণ না করাই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত। আর আন্তরিকভাবে তওবা করে হালাল পথে ফিরে আসা ব্যক্তির প্রস্তাব তার বর্তমান দ্বীনদারি ও চরিত্র বিবেচনা করে গ্রহণ করা যেতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯