নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান কি এবার হতে যাচ্ছে? দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আনতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থ বিভাগের কাছে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে ছয় মাসের বকেয়াসহ মোট ১২ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য এই অর্থ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজন ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চাওয়া হয়েছে ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া হিসাবের ভিত্তিতে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর প্রথমে বকেয়াসহ বেতন-ভাতার হিসাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে সেই হিসাব পর্যালোচনা করে অর্থ বিভাগের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন করা হয়। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে তাঁদের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটাতেই আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা শিগগিরই নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। মন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সামনে আসার পর পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিবর্তে ইনডোরে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
সংগঠনটি জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের তিন দফা দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে। এখন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল অপেক্ষা, অর্থ বরাদ্দের আবেদন অনুমোদন এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের। বরাদ্দ মিললে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় আসতে পারে বড় পরিবর্তন।