পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা দূর করা, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ ১৪ দফা দাবি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৬:৪৮ সময় , আপডেট সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৬:৪৮ সময়
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা দূর করা, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। সংগঠনটির অন্যতম প্রধান দাবি হলো, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম। এ সময় হারুনুর রশিদ খাঁন, কবির আহমদ, কামরুন নাহার ও সাহিদা সরকারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান বাজারদর, মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি সম্প্রতি গঠিত ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডকে শ্রমিকদের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শিল্পকারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উৎপাদন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির ঘটনার বিরোধিতা করে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিল্প খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টা এক বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৪ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

মজুরি, বকেয়া ও খাদ্যনিরাপত্তা

  • জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা।
  • শ্রমিকদের পাওনা বেতন ও অন্যান্য ভাতা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
  • স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের জন্য শ্রমিকদের মধ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা।
শ্রমিক নির্যাতন, সহিংসতা ও বিচার
  • শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
  • কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করা।
  • গ্রেপ্তার হওয়া নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা।
  • রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধ করা।
শিল্পের স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা
  • শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ বজায় রাখা।
  • শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আয়োজন করা।
  • আন্দোলনকে ঘিরে নিষিদ্ধ সংগঠন, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও উসকানিদাতাদের অপতৎপরতা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
  • বন্ধ হয়ে যাওয়া পোশাক কারখানাগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা।
  • অন্যায় ও বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। এ জন্য সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯