যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন

রিপাবলিকানদের পরাজয়, স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৭:৬ সময় , আপডেট সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৭:৬ সময়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর দাবি, ইরানকে কেন্দ্র করে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি ভোটারদের সমর্থনও রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের জন্য ইরান পরিস্থিতি আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। তবে তাঁর মতে, ইরান ইস্যুতে তিনি যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলোর গুরুত্বও সাধারণ মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন।

রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন ভোটারদের অসন্তুষ্টির স্পষ্ট প্রতিফলন। বিরোধী দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, সে বিষয়েও ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা তাঁর কাছে বেশ কিছু বিতর্কিত আইন প্রস্তাব পাঠাতে পারে। সেগুলোকে তিনি অযৌক্তিক মনে করলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে ভেটো দেবেন। তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে এভাবে ভেটো দেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা নিজেরাই সমাধানের পথ খুঁজতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তখন উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের প্রকৃত ব্যাপ্তি এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত না হলেও সাউথ ক্যারোলিনা, টেক্সাস ও আইওয়ার মতো রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও দলটির জয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ব্যর্থতা এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপেও মূল্যস্ফীতি ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও খ্রিস্টান ধর্মযাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সিনেট নির্বাচনে জয়কে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক শতাব্দী আগে মহামন্দার পর থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে এমন সাফল্য আর দেখা যায়নি। 

অন্যদিকে, ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন এমন একটি আসনে জয় পেয়েছেন, যেটি দুই বছর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দখলে ছিল। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমস টালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। নানা বিতর্ক ও অভিযোগের মুখেও প্যাক্সটনের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প এই দুই অঙ্গরাজ্যেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। সাউথ ক্যারোলিনায়ও রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা এসেছে। সেখানে শিশু বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুস রিপাবলিকান সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প প্রায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ডারলিন গ্রাহাম ওই আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন। 

নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রার্থী বাছাই নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। দলের অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত নেতাদের পরিবর্তে তিনি কেন প্যাক্সটন ও গ্রাহামের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের সমর্থন দিয়েছিলেন, তা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্যাক্সটন ২০২৩ সালে অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে, গ্রাহামও নিজের অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। নির্বাচনের শেষ সময়ে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালান। প্যাক্সটন, গ্রাহাম ও ওহাইওর জন হাস্টেডের সমর্থনে তিনি দুই ডজনের বেশি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। এসব সভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বারবার নিজের নাম ব্যালট পেপারে রয়েছে বলে কল্পনা করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে মঙ্গলবার রাতে যখন রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প।

সেখানে তিনি লেখেন, ব্যালট পেপারে তাঁর নাম না থাকায় রিপাবলিকানরা প্রত্যাশিত ফল পাননি। তাঁর দাবি, নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হলে দলটি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করত।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯