মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া সোনার ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে

মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যার নেপথ্যে স্বর্ণ লুটের বিরোধ, পুলিশের দাবি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৭:৫৪ সময় , আপডেট সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৭:৫৪ সময়
মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া সোনার ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড ও স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ৬১ ভরি ৬ আনা সোনা, দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।

স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), ফরিদ মন্ডল (৫৯), মিল্টন (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মারুফ হোসেন (৩২), গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মারুফ হোসেন (৪৪)। অন্যদিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন—রনি শিকদার (৩৮), শামিমা তাবাসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মারুফ হোসেন (৪৪), গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)। কয়েকজনের নাম দুই মামলাতেই রয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থেকে মানিকগঞ্জের মজিবর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে নামিয়ে নেওয়া হয়। তার কাছে ১৫০ ভরি ওজনের ১৪টি স্বর্ণের বার ছিল। মাগুরার রামনগর এলাকায় বাসটি থেকে নামানোর পর তাকে হুলিরগর এলাকার একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারুফের নেতৃত্বে তার কাছ থেকে স্বর্ণের বারগুলো লুট করা হয়। 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ডাকাতিতে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন এবং পৌর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শাকের হোসেনসহ ১২ থেকে ১৫ জন অংশ নিয়েছিলেন। লুট করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মারুফের সঙ্গে শাকেরের বিরোধ দেখা দেয়। পুলিশ দাবি করেছে, এই বিরোধের জের ধরে মারুফ হোসেন ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের মাধ্যমে চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেন। পরে ওই খুনিরা শাকেরকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ সুপার আরও জানান, ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় মাগুরা থানায় পৃথক মামলা হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ৬১ ভরি ৬ আনা বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথাও জানান পুলিশ সুপার। উল্লেখ্য, গত বুধবার সকাল ৬টার দিকে মাগুরার পারনান্দুয়ালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ স্ট্রোক বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরে তার মাথার পেছনে গুলির চিহ্ন বা ছিদ্র দেখা যায়। এরপর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে সামনে আসে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমীন নাহার বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯