মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার জন্য প্রায় ২২ বছর আগে মহাকাশে পাঠানো নাসার একটি পর্যবেক্ষণযান এবার পৃথিবীতে

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে নাসার দেড় টন ওজনের মহাকাশযান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৫ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৬ সময় , আপডেট সময় : ৫ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৬ সময়

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার জন্য প্রায় ২২ বছর আগে মহাকাশে পাঠানো নাসার একটি পর্যবেক্ষণযান এবার পৃথিবীতে ফিরে আসছে। তবে স্বাভাবিক অবতরণ নয়, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর আগুনে পুড়ে ধ্বংস হওয়ার কথা রয়েছে মহাকাশযানটির। এর কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার আশঙ্কাও করছে নাসা।


মহাকাশযানটির নাম ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’। এর ওজন প্রায় ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড, অর্থাৎ ১ দশমিক ৪৫ টন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কথা ছিল মহাকাশযানটির। নাসা জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলের ঘন স্তরে প্রবেশের পর এর অধিকাংশ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে। এ ঘটনায় পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই ঝুঁকি ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের সমান।


নাসার ধারণা, মহাকাশযানটির ধ্বংসাবশেষ দক্ষিণ অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রির মধ্যে পড়তে পারে। বিষুবরেখার উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ২ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চলে এর অংশবিশেষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য এলাকার মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আফ্রিকা, দক্ষিণ ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রয়েছে। পাশাপাশি বিশাল সমুদ্রাঞ্চলও এই ঝুঁকির আওতায় পড়েছে।


তবে ঠিক কখন মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, তা নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসেও সময়ের পার্থক্য রয়েছে। অ্যারোস্পেস করপোরেশনের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে এটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। এ সময়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হেরফের হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর পূর্বাভাসে সম্ভাব্য সময় বলা হয়েছে সকাল ৭টা ৪২ মিনিট।


অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মতে, বর্তমানে কোনো মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হলে এর কার্যক্রম শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে আরও কঠোর নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হতো। ২০১৯ সালে হালনাগাদ করা নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ফিরে আসা কোনো মহাকাশযানের কারণে প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা ১০ হাজারে একজনের কম রাখতে হবে।


নাসা আগে থেকেই জানত, একসময় সুইফট পর্যবেক্ষণযানটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে নেমে আসতে পারে। এ ঝুঁকি এড়াতে গত জুলাইয়ে একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশযানটিকে ধরে আবারও উঁচু কক্ষপথে স্থাপন করা, যাতে এর কার্যক্রম আরও ১০ বছর বা তার বেশি সময় চালানো যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ ও টানের কারণে মহাকাশযানটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে আসে। একপর্যায়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৭৫ কিলোমিটারে। এরপর এটি বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়। নাসা জানায়, বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের বাড়তি চাপ সামাল দিতে না পেরে মহাকাশযানটি স্বয়ংক্রিয় নিরাপদ অবস্থায় চলে গিয়েছিল।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯