রাজধানীর জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ১৩ তলাবিশিষ্ট প্রতিটি ভবনে থাকবে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। তিনটি ভবন মিলিয়ে মোট ১৮৪টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। মূলত ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের আবাসনসংকট কমাতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে। সবগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন আবাসিক ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এবং এর সম্পূর্ণ অর্থ দেবে সরকার। এ জন্য জিগাতলায় প্রায় ২ দশমিক ৪৪ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় জিগাতলা সরকারি কলোনির ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হবে। সেসব ভবনের জায়গাতেই গড়ে উঠবে নতুন তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন। পুরোনো ভবনগুলো অপসারণের বিষয়ে ইতিমধ্যে ভবন কনডেমনেশন কমিটির অনুমোদন পাওয়া গেছে। এর আগে রাজধানীর মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের কাঠের কারখানা এলাকায় পাঁচটি এবং শিয়ালবাড়িতে ছয়টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৪ তলাবিশিষ্ট এসব ভবনের পাশাপাশি নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জেও আরও ১৫টি আবাসিক ভবন তৈরি করা হয়।
তবে নতুন প্রকল্প শুরুর আগে আগের নির্মিত ভবনগুলোর ব্যবহার ও বরাদ্দ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনসংকট থাকলেও নির্মিত ভবন খালি পড়ে থাকার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। যথাযথ বরাদ্দ ও ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ার সমস্যার সমাধান করেই নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এদিকে একনেকের বৈঠকে অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত। এসব প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ৫০ হাজার ৪১ কোটি টাকা। প্রকল্প ঋণ হিসেবে আসবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। বাকি ৭৩ কোটি টাকা জোগান দেবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে।