মাদারীপুরের রাজৈরে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামে ঘটে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা। নিহত গৃহবধূ জান্নাতুল ইসলাম মাইসা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী এলাকার হাবিবুর রহমান সেজালের মেয়ে। তার স্বামী সুজন মুন্সী একই ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামের আব্দুর রব মুন্সীর ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবপ্রবাসী সুজন মুন্সীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে মাইসার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ বিষয় নিয়ে একাধিকবার মাইসাকে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে মাইসাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে তার মরদেহ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনেরা।
এরপর সুজন মুন্সী মাইসাকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে মাইসার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনেরা। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের স্বামী সুজন মুন্সীকে আটক করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মাইসা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা আরও স্পষ্ট হবে।