ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০২৬ (বাসস): ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে অন্যের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল এবং দেশের গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক সেনাবাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।
আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি। বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু ও মিত্রকে চিহ্নিত করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্ম, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি প্রবাদ মনে রাখা জরুরি—অতীত আঁকড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ হয়, আর অতীত পুরোপুরি ভুলে গেলে অন্ধ হয় দুই চোখই। তাই সারাক্ষণ ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নেওয়াও বড় ভুল।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে মহাজোটের নামে একত্র হয়ে দেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সেনাসদস্যদের হত্যা করে সেনাবাহিনীর গৌরব ও সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে।
তারেক রহমানের ভাষ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা সুরক্ষার আন্দোলন। ২০২৪ সালে যেভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিলেন, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশের স্বাধীনতা, জনগণের অধিকার কিংবা সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে না পারে এবং বাংলাদেশকে অন্যের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, ৭ নভেম্বরের অঙ্গীকার হওয়া উচিত সেটিই। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীন দেশে জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। সবশেষে তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।