যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ দেশটির বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে ‘বড় ভুল’ ও ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাত’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়ানোই উচিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরাইলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি ইসরাইলি সরকারকে দেওয়া সামরিক সহায়তার বিষয়ে আরও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা দেশটির জন্য এক ধরনের ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, এই সংঘাত শুরু করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ এড়িয়ে চলেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই সতর্ক অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমান প্রশাসন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এল-সায়েদের অভিযোগ, এক বিদেশি প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে প্রভাবিত করেছেন। তার দাবি, কয়েক দশক ধরেই ওই প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরাইলকে বিশেষ ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এল-সায়েদ বলেন, অন্যান্য দেশের সরকারের মতো ইসরাইলি সরকারকেও একই ধরনের জবাবদিহিতা ও নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো দেশের সরকারের সমালোচনা করার অর্থ সেই দেশের জনগণ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নয়। রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা এবং জনগণের প্রতি শত্রুতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা। তিনি বলেন, ইসরাইলকে নিয়মিত অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করার নৈতিক দায়িত্ব ওয়াশিংটনের রয়েছে। এ ছাড়া মিশরের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করে এল-সায়েদ বলেন, দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অব্যাহত থাকলে মিশরকে মার্কিন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করা উচিত।