দেশের শিশু-কিশোরদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। এবার ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই, এমনকি মাত্র ৬ বছর বয়স থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতায় আসতে পারে শিশুরা। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের নিবন্ধনের প্রস্তাব করেছে কমিশন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শনিবার নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কমিশনের এক নীতি-নির্ধারণী সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শুরু করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগ কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ বিষয়ে একটি বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কার্যকর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে। কর্মশালার আলোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হতে পারে। বর্তমানে দেশে ১৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে কম বয়সীদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কবে থেকে এবং কীভাবে এই কার্যক্রম শুরু হবে, তা নির্ভর করছে কর্মশালার সুপারিশ ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।