রাজধানীর সাত কিলোমিটার সড়কজুড়ে মানুষের দীর্ঘ সারি, হাতে জাতীয় পতাকা আর স্লোগানে মুখর রাজপথ। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব র্যালিকে’ ঘিরে শনিবার ঢাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট পেরিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয় এই শোভাযাত্রা।
দুপুর থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনসমাগম। বেলা তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় পুরো এলাকায় স্লোগান ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনা তুলে ধরে দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে বারবার নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
এরপর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয় সার্বভৌমত্ব র্যালি। তারেক রহমানের সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও অংশ নেন। সাদা শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরা প্রধানমন্ত্রী পুরো পথ হেঁটে অতিক্রম করেন। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতেও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
র্যালির কারণে ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, আরামবাগ, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর ও মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। যান চলাচল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করেন।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সমাপনী বক্তব্যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার রক্ষা করতে হবে।