রাজনীতিকে অপছন্দ করলেও এর প্রভাব থেকে কেউই পুরোপুরি দূরে থাকতে পারে না—এমন মন্তব্য করে তরুণদের ‘রাজনীতি অপছন্দ করি’ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হান্নান মাসউদ। শনিবার ৭ নভেম্বর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। একই অনুষ্ঠানে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক কার্যক্রমের পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।
হান্নান মাসউদ বলেন, রাজনীতি পছন্দ করি না বললেই রাজনীতি থেকে দূরে থাকা যায় না। একটি শহরের বাতাস দূষিত হবে নাকি বিশুদ্ধ থাকবে, চালের দাম ৩০ টাকা হবে নাকি ৬০ টাকা হবে—এ ধরনের সিদ্ধান্তও রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই তরুণ প্রজন্মকে ‘আই হেট পলিটিক্স’ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ‘আই লাভ পলিটিক্স’ ধারণার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রজন্মকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার মানসিকতায় অভ্যস্ত করা হয়েছে। এর ফলে ভালো মানুষরা রাজনীতি থেকে সরে গেলে অসৎ ও অপরাধী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়ার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট দল বা ছাত্রসংগঠনে যোগ দেওয়া নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর মতে, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের সদস্য না হয়েও একজন মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকতে পারেন। নবীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছর শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু আনন্দ-উল্লাসের জন্য নয়, পড়াশোনার প্রতিও সমান মনোযোগী হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় নোয়াখালীর মানুষের আতিথেয়তার কথাও স্মরণ করেন হান্নান মাসউদ। তিনি জানান, আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে থাকার ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে হোটেলে থাকতে হতো না। তবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কারণে স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।