ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক দলগুলো অবৈধভাবে ভোটারদের ওপর নজরদারি চালিয়ে অন্যায্য সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। তবে পাল্টা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিষিদ্ধ অ্যাপ ব্যবহারের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে লিকুদ কর্মীদের বিরুদ্ধেই।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণের কারণে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় নেতানিয়াহুর জোট। এরপর থেকেই নির্বাচনে ঘুষ, ভয়ভীতি, জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছেন নেতানিয়াহু ও তাঁর জোটের নেতারা। লিকুদের আইনজীবী ইলান বোমবাখ জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দলের পর্যবেক্ষকেরা অভিযোগ করেন, আরব দলগুলোর কর্মীরা স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এ বিষয়ে প্রায় ৭০০টি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ কার্যক্রম চালানোর ফলে আরব দলগুলো অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে।
তবে পুরো নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা হবে, নাকি নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি লিকুদ। জেরুজালেম জেলা আদালতে আপিলের পরিকল্পনা থাকলেও আবেদনের শেষ সময় ১৭ নভেম্বর। অন্যদিকে, নির্বাচনে স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক পাঠানো সংগঠন ‘সিভিলিয়ান ইলেকশন গার্ড’ ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে অ্যাপ ব্যবহারের ৩৭৪টি সম্ভাব্য অনিয়মের তথ্য পেয়েছে। সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার ৩২ শতাংশের সঙ্গে লিকুদের কর্মী ও ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এরপর রয়েছে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, শাস, রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের নাম।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ১০ দিন আগে উচ্চ আদালত ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন লিকুদের কয়েকজন মন্ত্রী। এদিকে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে আরও দুটি তদন্তের বিষয় সামনে এনেছে লিকুদ। এর একটি রা’আমের পক্ষে ভোট দিতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা এবং অন্যটি জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ। তবে দুটি তদন্তই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেল। নতুন প্রমাণ না পাওয়া গেলে একটি মামলার তদন্ত বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান নোয়াম সোলবার্গ বলেছেন, তদন্তাধীন অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলেও সেগুলো নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো গুরুতর নয়। আরব ভোটারদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে হস্তান্তরের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ৬৭ জন সংসদ সদস্য বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৬ জন। সাতটি আসন পাওয়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো পক্ষকেই সমর্থন দেয়নি। এতে নেতানিয়াহুর প্রতি দলটির দীর্ঘদিনের সমর্থনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।