চিনির গুদামে আগুন লাগার ফলে চিনির কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। বলেছেন, মিল মালিকদের সাথে কথা হয়েছে। মিল গেট থেকে রমজানের আগে এক টাকাও দাম বাড়বে না চিনির।
আজ বৃহস্পতিবার কলোনি বাজার পলিটেকনিক মাঠে টিসিবি আয়োজিত টিসিবি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কখনোই চাই না পুলিশের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করতে। কিন্তু বাধ্য হই ব্যবসায়ীদের কারণে। এজন্য পণ্যের সরবরাহ স্বভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি লোককে প্রতি মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেয়া হচ্ছে। টিসিবির সেবাগ্রহণকারী গ্রাহকদের তথ্য আবার যাচাই বাছাই করে ডিজিটাল কার্ড দেয়া হচ্ছে। রমজানেও সাধারণ মানুষ ভালোভাবে ইফতার করতে পারে সেজন্য চিনির দাম ৩০ টাকা কমিয়ে ৭০ টাকাই রাখা হয়েছে।
এসময় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিসিবির পণ্য কিনতে গ্রাহকদের অনেক সময় পরিশ্রম হয়। এই ভোগান্তি কমাতে টিসিবির ডিলারশিপের দোকানগুলো নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে মিল থেকে ডিলার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করা হবে, যাতে সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকে। একইসাথে টিসিবির মাধ্যমে এই এক কোটি গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে বাজারের চাপটা অনেক কমে যাবে। ফলে সাধারণ ভোক্তারাও সহজে কেনাকাটা করতে পারবে। মিডেলম্যানদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
এদিকে চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ূন কবির আজ সকালে এক অডিও বার্তায় জানিয়েছেন, টিসিবির চিনির মূল্য ১০০ টাকা নয়, আগের মূল্য ৭০ টাকাই থাকবে।
টিসিবি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের মধ্যে যে চিনি বিক্রি করে থাকে, তার দাম গতকাল কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়েছিল। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংস্থাটি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলো।
এরআগে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি সরকারি মিলের লাল চিনির দাম কেজিতে ২০ টাকা বাড়ানো ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু ২২ ফেব্রুয়ারি রাতেই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দাম বাড়ানোর ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তারা।