গোপালগঞ্জে লুৎফর মোল্লা হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাকসুদুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার আমতালা গ্রামের শফিউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ হাওলাদার (৩২), গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার চর কুশলী গ্রামের পান্নু শিকদারের ছেলে আব্দুল্লাহ শিকদার (১৯) ও একই এলাকার মন্টু শিকদারের ছেলে সাজেদুল ইসলাম (২৩)।
জানা যায়, লুৎফর মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন লোকজনকে সুদে টাকা ধার দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা বাজারে চা খেতে যান লুৎফর মোল্লা। চা খাওয়া শেষে সেখান থেকে পাওনা টাকা নিয়ে একই উপজেলার চরকুশলী গ্রামে যান। সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে লুৎফর রহমানের সেলফোনে একটি কল আসে। ফোনে কথা বলতে বলতে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে ওই এলাকার সোলাইমান শিকদারের বাগানের কাছে পৌঁছলে কে বা কারা তাকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে নিহতের ছেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সজিব মোল্লা বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল এ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আজগার আলী খান বলেন, ‘মামলার রায়ে সঠিক বিচার পেয়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে এ রায় কার্যকরের দাবি জানাই আমরা।’
মামলার বাদী সজিব মোল্লা বলেন, ‘আমার বাবার হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। আমরা সঠিক বিচার পেয়েছি। আশা করি উচ্চ আদালতে এ রায় বহাল থাকবেন।’
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। শুধু একটি স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি সেখান থেকে সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন।’
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় হিসাবরক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ চারজনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বগুড়ার স্পেশাল জজ অম্লান কুমার জিষ্ণু এ রায় দেন। রায়ে একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা ১১ কোটি ৭৪ লাখ ৬১ হাজার ৮৬৩ টাকা তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার বাদী ছিলেন বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাবেক হিসাবরক্ষক খলিলুর রহমান, সোনালী ব্যাংকের দুপচাঁচিয়া শাখার ক্যাশ অফিসার আব্দুল বারী, আব্দুস সালাম ও ইউনুস আলী।
বগুড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ভুয়া পেনশন হোল্ডার (পিপিও) তৈরি করে মাসিক ভাতা হিসাবে ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এরপর মামলার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট চার্জশিট জমা দেয়া হয় আদালতে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায়ের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।