পাকিস্তানের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তাকে
মার্কিন চাপে দেশের ক্ষমতা
থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মার্কিন নিউজউইক পত্রিকাকে দেয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে এই
অভিযোগ করেন ইমরান খান।
তার সাক্ষাৎকার শনিবার প্রকাশ হয়েছে।
ইমরান
খান বলেন, তিনি যেদিন রাশিয়া
সফরে গিয়েছিলেন সেদিনই মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তিনি
যদিও এই অভিযানের উদ্দেশ্য
সমর্থন করেননি তবে তিনি এর
নিন্দা জানাতেও অস্বীকার করেন। এর কারণ হিসেবে
ইমরান খান বলেন, রাশিয়ার
সঙ্গে সই হওয়া একটি
বাণিজ্য চুক্তি বহাল রাখার জন্য
তিনি রাশিয়ার অভিযানের নিন্দা জানাতে চাননি। কিন্তু আমেরিকার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের
ওপরে মারাত্মকভাবে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা
হয় এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত
করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, এই সামরিক অভিযানের
আগে পাকিস্তান রাশিয়ার সঙ্গে সস্তায় তেল ও গম
কেনার চুক্তি করে। সে সময়
যদি তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে
নিন্দা জানাতেন তাহলে এই চুক্তির ভাগ্য
অনিশ্চিত হয়ে পড়তো এবং
তাতে দেশের জনগণ আরো কষ্টের
মধ্যে পড়ে যেত। এসব
কথা বিবেচনা করে তিনি রাশিয়ার
বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানান বলে দাবি করেন
ইমরান খান। অথচ আমেরিকা
জাতিসংঘের মাধ্যমে পাকিস্তানকে পাশে চেয়েছিল।
ইমরান
খান বলেন, ২০২২ সালের মার্চ
মাসে পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয় এবং
সেখানেই আমেরিকার পক্ষ থেকে জানিয়ে
দেয়া হয় যে, প্রধানমন্ত্রী
হিসেবে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা না হলে
তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এরপরই ইমরান খানের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় এবং
মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা পাকিস্তানের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে
বৈঠক করেন।
ইমরান খান আমেরিকার বিরুদ্ধে
এই অভিযোগ করলেও ওয়াশিংটন বারবারই বলছে, তারা ইমরান খানের
উৎখাতের সঙ্গে জড়িত নয়।