ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসরের নামাজ পর্যন্ত সময়কে তাশরিকের দিন বলা হয়। এই দিনগুলোতে প্রতিটি ফরজ নামাজের পর বিশেষ এক ধরণের তাকবির পাঠ করা হয়, যাকে তাকবিরে তাশরিক বলা হয়। এটি মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং ওয়াজিব আমল।
তাকবিরটি হলো:
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।"
এই তাকবির সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
“যেন তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।”
(সূরা হজ, আয়াত: ২৮)
বিখ্যাত সাহাবি ও মুফাসসির হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে ‘নির্দিষ্ট দিন’ বলতে আইয়ামে তাশরিক বা তাশরিকের দিনগুলো এবং ‘আল্লাহর নাম স্মরণ’ বলতে তাকবিরে তাশরিক বোঝানো হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকে জানা যায়, এই দিনগুলোতে করা আমল আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়। এমনকি, সাহাবিদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি (সা.) বলেন, এই আমল জিহাদের চেয়েও উত্তম—তবে ব্যতিক্রম কেবল সেই ব্যক্তি, যে নিজের জীবন ও সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না। (সহিহ বুখারি)
তাকবিরে তাশরিক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
- তাশরিকের দিনগুলোতে প্রতিটি ফরজ নামাজের পর পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে এই তাকবির পাঠ করা ওয়াজিব।
- নারীরা নিচু স্বরে পড়বে, যাতে নিজের কানে শুনতে পারে।
- জামাতের সঙ্গে হোক বা একা, ওয়াক্তের নামাজ হোক কিংবা কাজা, মুকিম কিংবা মুসাফির—সবার জন্য ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক বলা আবশ্যক।
- কেউ ভুলবশত তাকবির বলতে ভুলে গেলে, স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পড়ে নিতে হবে। তবে যদি নামাজ শেষে কথা বলা, হাঁটাহাঁটি বা অন্য কোনো ভিন্ন কাজে লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে আর তাকবির বলা যাবে না—তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তওবা করা উচিত।
এই আমল মুসলিমদের আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকার এবং ঈদের পরবর্তী দিনগুলোতেও তাকওয়া অর্জনের একটি উত্তম মাধ্যম।