তারকা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা আছে। আজ তেমনি একটি একটি বিষয় নিয়ে

বহুদিন ধরে পুরষদের ঘৃণা করতাম: বাঁধন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২১ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:৫৯ সময় , আপডেট সময় : ২১ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:৫৯ সময়

তারকা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা আছে। আজ তেমনি একটি একটি বিষয় নিয়ে ফেসবুকে কথা বলেছেন। তিনি পরিষ্কার করেছেন ‘পুরুষ’দের নিয়ে তার চিন্তা ও অনুভব কী। কারণ তার অনেক কথা ও লেখায় পুরুষদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশিত হয়েছে। তাই অনেকেই ভাবে যে, বাঁধন পুরুষদের ঘৃণা করে। আবার কেউ কেউ মনে করে থাকে, বাঁধন জৈবিক চাহিদার দিক দিয়েও পুরুষকে অপছন্দ করেন!


বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য বাঁধন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রায়শই আমার সম্পর্কে একটা বিরাট ভুল ধারণা আছে—আমি পুরুষদের পছন্দ করি না। এটা সত্য নয়। আমি যা পছন্দ করি না তা হল আমরা যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করি এবং পুরুষ ও মহিলা উভয়ই সেই ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। অনেক দিন ধরে আমি তাদের ঘৃণা করতাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটা সম্পূর্ণরূপে তাদের দোষ নয়। সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রই তাদেরকে পুরুষতন্ত্রের বাহক হিসেবে গড়ে তোলে। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি পুরুষতন্ত্র পছন্দ করি না, যারা এটি সমর্থন করে তাদেরও। কিন্তু আমি মানুষকে ঘৃণা করি না।’


এরপর তিনি বলেন, ‘এবার কথা বলতে চাই আমার জীবনের পুরুষদের নিয়ে। আমার কয়েকজন পুরুষ আমাকে গভীরভাবে গড়ে তুলেছেন। অবশ্যই, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেন আমার বাবা, যিনি আমাকে অসংখ্য উপায়ে গড়ে তুলেছেন। আরেকজন হলেন সাদ, আমার রেহানা মরিয়ম নূর সিনেমার পরিচালক। আজকের আমি যে ব্যক্তিত্ব ধারণ করি, তার উপর গভীর প্রভাব রয়েছে এই দুই পুরুষের।’


যুক্ত করে বাঁধন বলেন, ‘তারপর আমার দুই ভাই, আমাদের চিন্তাভাবনার ভিন্নতা সত্ত্বেও আমার আজীবনের সহযোগী। বিশেষ করে আমার ছোট ভাই রাশা, যে কেবল আমার ভাইই নয়, আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুও। যার সাথে আমি শিশুর মতো নির্দোষভাবে কথা বলতে পারি এবং আমার অন্য ভাই, যে আমার বাবা-মা যখন পারতেন না তখন আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমি কখনই তা ভুলব না। তারা দুজনেই উত্তরাধিকারের বিষয়ে একটি অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারা শরিয়াহ আইন কঠোরভাবে অনুসরণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বরং আমার সাথে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি এই সত্যটি পছন্দ করি না যে তাদের আমাকে এটি দিতে হয়েছিল, যেন এটি শুরু থেকেই তাদের ছিল, কিন্তু এটাই আমাদের ব্যবস্থার বাস্তবতা। তবে তারা ন্যায্যতা এবং ভালোবাসার সাথে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। আমি আশা করি একদিন আমাদের আইন নিজেই সকলের জন্য সমান উত্তরাধিকার নিশ্চিত করবে।’


সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনে আরও কয়েকজন পুরুষ আছেন যারা আমাকে অর্থপূর্ণ উপায়ে প্রভাবিত করেছেন। তাদের জন্য আমি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই বহন করি না। তারা সবসময় আমার প্রার্থনায় থাকবে। আর তারপর আরও আছে। যারা আমার জীবনে নেতিবাচক, কখনও কখনও নিষ্ঠুর চিহ্ন রেখে গেছে। তাদের অনেকেই আছে। তারা অসম্মানজনক, হিংস্র, অমানবিক ছিল।’


তবুও অদ্ভুতভাবে আমি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ। কারণ তারা যতই আমাকে ভাঙতে চেষ্টা করেছিল, তাদের নিষ্ঠুরতা আমাকে জ্বালানি দিয়েছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অগ্ন্যুৎপাতের মতো। আজ আমি যা তা হতে তারাও সাহায্য করেছিল। তারা কখনও আমার প্রার্থনায় থাকবে না, কিন্তু তারা আমার গল্পে বিদ্যমান। সম্ভবত একদিন তারা বুঝতে পারবে যে তারা কী করেছে। এই উপলব্ধিই হবে তাদের সবচেয়ে বড় শাস্তি।


তাই আমাকে ভুল বুঝ না যে, আমি পুরুষদের অপছন্দ করি না। আমি পুরুষতন্ত্রকে অপছন্দ করি। আর হ্যাঁ, আমি পুরুষদের পছন্দ করি।’

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯