দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়ার কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর ঘিরে নানা হিসাবনিকাশ চলছে। পশ্চিমা দেশগুলো তার সফরকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতেই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ইউক্রেন পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ইস্যু প্রাধান্য পাবে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে সফরে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ওইদিন বিকালে তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর অনেক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো নানা ধরনের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তারা বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাশিয়াকে প্রবল চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থার মধ্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এদিকে বাংলাদেশ সামরিক সরঞ্জাম, খাদ্যশস্যসহ নানা পণ্য আমদানি করে রাশিয়া থেকে। রাশিয়ার জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম আনতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে মস্কোর পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে পশ্চিমাদের চাপের মুখে থাকার ইস্যুতে বাংলাদেশের সক্রিয় সমর্থন চাইতে পারেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সফরকে ঘিরে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক ফেসবুক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে রাশিয়ার অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। সের্গেই লাভরভের ঢাকা সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতবিনিময়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।