ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, "যতদিন ফিলিস্তিন মুক্ত না হয়, যতদিন স্বাধীন না হয়, ততদিন আমরা তাদের পাশে থাকব এবং আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।"
আজ (শুক্রবার) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। গাজার জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক নৌবহর আটকের পর এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, "ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনের গাজায় একের পর এক গণহত্যা চালাচ্ছে, যার প্রধান শিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে নারী ও শিশুরা। তবে আমরা এই গণহত্যার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সারা বিশ্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছি।"
তিনি আরও বলেন, "ফিলিস্তিন ও গাজাকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরেও কিছু শক্তিশালী দেশ ইসরাইলকে অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এই অনৈতিক সহায়তা মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ খেলায় পরিণত হয়েছে।"
অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম আহ্বান জানান, ইসরাইলের হাত বন্ধ করতে এবং দখল হওয়া অঞ্চলগুলো মুক্ত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
এছাড়া, তিনি ত্রাণবাহী জাহাজের কর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, "বাংলাদেশ সরকারের এই আটকের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও মুক্তির দাবিকে আমরা স্বাগত জানাই।"
এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নৌবহর 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা' ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হয়। নৌবহরটি স্পেন থেকে শুরু হয়ে ইতালি ও গ্রিস থেকে আরও নৌযান যোগ হয়ে গাজায় মানবিক ত্রাণ পাঠানোর চেষ্টা করছিল। এর মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ৪০০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন।
ইসরাইলি বাহিনী বুধবার গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে এই নৌবহরকে বাধা দেয়, যা তুরস্ক ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।