ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
রাজমিস্ত্রী থেকে বিশ্বকাপ দলে ইগর থিয়াগো রামিসা হত্যা: আদালতে নেওয়া হয়েছে দুই আসামিকে অফ-ফর্মে থাকা বুমরাহকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন জয়াবর্ধন ৭ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন , ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে অতিথি জামায়াতের এমপি আগামীকাল থেকে চলবে ১০টি স্পেশাল ট্রেন: রেলমন্ত্রী ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গবাসীদের জন্য বিশাল সুখবর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের ‘হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন’- মসজিদে নববীর ইমামের হৃদয়ছোঁয়া আহ্বান শ্রীমঙ্গলে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে চা উৎপাদনে চমক

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে চা উৎপাদন করে চমক সৃষ্টি করা হয়েছে। চায়ের দেশ সিলেটের অবিকল এ চা চাষ এবং
  • আপলোড সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, দুপুর ৪:৩৩ সময়
  • আপডেট সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, দুপুর ৪:৩৩ সময়
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে চা উৎপাদনে চমক ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে চা উৎপাদন করে চমক সৃষ্টি করা হয়েছে। চায়ের দেশ সিলেটের অবিকল এ চা চাষ এবং বাগান দেখতে প্রতিদিনই হাজার হাজার দর্শনার্থী পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায় ভীড় করছে। সিলেটের খাসিয়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপের সহায়তা নিয়ে প্রথমে এক একর জমিতে চা গাছ রোপণ করা হয়। শুরুতে কেউ ভাবেননি লালমাই পাহাড়ের মাটিতে চায়ের এমন সবুজ বিপ্লব ঘটবে। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল দেখে আরো বেশি উজ্জীবিত উদ্যোক্তারা। পর্যায়ক্রমে এক একর থেকে ছয় একরে রূপান্তর করা বাগানকে।

চা বাগানের উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম মজুমদারের স্বপ্ন সিলেটের মতোই চা বিপ্লব ঘটাবেন লালমাই পাহাড়ে। চমৎকার উৎপাদন দেখে তিনি এখানে চা পাতা প্রক্রিয়া করণের কারখানাও গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাকে দেখে পাহাড়ের আশপাশের অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এদিকে এ পাহাড়ের মাটিতে লাল এবং সবুজ চা উৎপাদনের অনেক সম্ভাবনাময় মাটি ও পরিবেশ রয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, কুমিল্লায় এই প্রথম চা উৎপাদন শুরু হয়েছে লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায়। তরুণ উদ্যোক্তা তরিকুল শখের বশে চাষ শুরু করলেও ফলন হয়েছে চমৎকার। মাটি এবং পরিবেশের চমৎকার সন্ধিতে ফলন অনেক ভালো। খবর পেয়ে পাহাড়ের চা চাষের এলাকাটি কয়েকবার পরিদর্শন করেন কৃষি কর্মকর্তারা। এখানে বৃষ্টির পরিমাণ কম। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে উৎপাদন আরও ভালো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তা তরিকুল বাগানে কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা করেছেন। এখানে ভালো গ্রিন টি চাষ হতে পারে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লালমাই পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সবুজ চা বাগান। যেন একটুকরো সিলেট। তপ্ত রোদে গভীর মনোযোগে দু হাত দিয়ে সবুজ কুঁড়ি ছিঁড়ে পিঠের ঝুড়িতে রাখছে চা শ্রমিকরা। এমন দৃশ্য সিলেট কিংবা মৌলভীবাজারের নয়। সবুজ চা পাতা সংগ্রহের এমন দৃশ্য এখন কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে। তরুণ উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম এরই মাঝে বানিজ্যিক ভাবে পুরোদমে শুরু করেছেন চা উৎপাদনের কাজ। কুমিল্লায় চা উৎপাদনকে শিল্পে রূপ দিতে চান এ উদ্যোক্তা। তাই আশপাশের অনেককেই তিনি উৎসাহিত করছেন। এদিকে লালমাই পাহাড়ের পতিত জমিতে চা বিপ্লবে উৎসাহিত করছেন কৃষি কর্মকর্তারাও। পাশাপাশি লালমাই পাহাড়ে চা চাষে সার্বিক সহায়তা করবে বাংলাদেশ চা উন্নয়ন বোর্ড।

তারিকুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ২০২১ সালের মার্চ মাসে এক একর জমিতে প্রথমে তিন হাজার এবং জুন-জুলাই মাসে আরও তিন হাজার চা গাছ রোপণ করি। ফলন ভালো দেখে বাগানকে ১০ একরে বৃদ্ধি করা। আমি সিলেটের মতোই চা বিপ্লব ঘটাতে চাই।

তিনি বলেন, ‘বিটি-২ জাতের চা গাছ রোপণ করেছি এখানে। বর্তমানে এ জাতের চায়ের রং ও স্বাদ খুবই চমৎকার। বাজারে বিটি-২ জাতের চায়েরও চাহিদা ব্যাপক।’

চা বাগানের উদ্যোগের বিষয়ে তারিকুল বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে জিডি সান নামে আমার এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বন্ধু আছে। সে খাসিয়াদের রাজা। চা বাগান করতে সেই মূলত আমাকে সহযোগিতা করেছে। একদিন জিডি সান দলবল নিয়ে কুমিল্লায় আসে। সে জানিয়েছিল, লালমাই পাহাড়ের মাটি চা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তারপর আমি চা বাগান করতে আগ্রহী হই। এখন বাগানটি দেখতে প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন।’

বড় ধর্মপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে মাথা তুলে আছে ছোটো বড় পাহাড়। লাল মাটির দুইটি পাহাড়ে প্রথমবারের মতো চা চাষ করা হয়েছে। পাহাড়ের ওপরে ও ঢালুতে চা গাছের চারা লাগানো হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক চা পাতা তুলছেন। তাদের কাঁধে কাপড়ের তৈরি থলে। চা গাছ থেকে দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি একসঙ্গে সংগ্রহ করছেন।

চা শ্রমিক রাজু সিং জানান, তার বাড়ি শ্রীমঙ্গলে। এখানে থেকে চা গাছের পরিচর্যা ও পাতা তোলেন। মার্চ মাস থেকে চা পাতা তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজার কেজি পাতা তুলেছেন। পাশের পাহাড়ে আরও চা গাছ লাগানো হচ্ছে। লালমাই পাহাড়ে সিলেটের মতো চা বাগান ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলায় এটি প্রথম উদ্যোগ। আমরা লালমাই পাহাড়ের চা চাষের এলাকাটি কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। চা চাষের জন্য মাটির যে ক্ষার থাকা দরকার এখানে তা আছে। কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণ কম। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে উৎপাদন আরো ভালো হতো। তবে তরিকুল কৃত্রিম সেচের মাধ্যমে ভালো উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, লালমাই পাহাড়ে ভালো গ্রিন টি চাষ হতে পারে।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহারের চেক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহারের চেক দিলেন প্রধানমন্ত্রী