প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন এবং বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গভীর সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে তাদের সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যা জলদস্যু দমন ও আন্তর্জাতিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করছে। নৌবাহিনীর এই সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও গভীর সমুদ্রের নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গুজব ছড়ানো হয়েছিল, সেন্টমার্টিন দ্বীপ দখল হয়ে যাচ্ছে এবং বিদেশি জাহাজ প্রবেশ করছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বীপটির চারপাশে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। অত্যাধুনিক রাডারের মাধ্যমে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে দ্বীপ ও সমুদ্রসীমা।
বহিঃসমুদ্রে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ খালিদ বিন ওয়ালিদ। বহিঃশত্রু ও জলদস্যুদের জন্য ত্রিমাত্রিক এই ফ্লিট যেনো আতঙ্কের নাম। জাহাজটিতে রয়েছে আকাশে ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পন্ন মিসাইল। পানির নিচে ৭ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে সাবমেরিনসহ যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব টর্পেডো, এবং পানি থেকে ভূমিতে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়।
বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের গানারি অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আকাশে কোনো এয়ারক্রাফট, ফাইটার, হেলিকপ্টার বা ড্রোন থাকলে জাহাজের শক্তিশালী রাডার তা ১০ কিলোমিটারের রেঞ্জ থেকে ট্র্যাক করবে। ট্র্যাক করার পর তথ্য গানের সিস্টেমে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে অটোমেটিক্যালি ফায়ার করার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাহাজের পেছনে রয়েছে আটটি লঞ্চার বিশিষ্ট এফএম ৯০১ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম। মিসাইলের ভেতরের সেন্সরের মাধ্যমে কোনো এয়ারক্রাফট চলাচলের সময় লক্ষ্যবস্তুকে সঠিকভাবে আঘাত করা সম্ভব।
নৌবাহিনীর এমন সক্রিয় সশস্ত্র উপস্থিতি নিশ্চিত করছে নিরাপদ নৌবাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল। জাহাজের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আরিফ রহমান বলেন, সমুদ্রসীমায় বেড়া দেয়া সম্ভব নয়, তাই আমাদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং গ্লোবাল ও স্থানীয় অংশীদারদের সুরক্ষা দিচ্ছে, যাতে বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
এছাড়া বহরে সামরিক মানের উচ্চ প্রযুক্তির হেলিকপ্টারও যুক্ত হয়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জলদস্যু ও শত্রু শনাক্তের পাশাপাশি দেশীয় মাছ ধরার নৌযান নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। নেভাল অ্যাভিয়েশনের পাইলট লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শফিকুল ইসলাম বলেন, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কোনো অবৈধ পাচার বা অন্য দেশের মাছ ধরার নৌযান শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে তা জাহাজকে জানানো হয়। জাহাজের গতি তুলনামূলক কম হওয়ায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অল্প সময়ে বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত নজর দেয়া সহজ হয়।
বহিঃসমুদ্রে বাংলাদেশের জলসীমা প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার। স্থলসীমার তুলনায় যা প্রায় পুরো দেশের সমান। এই বিপুল জলসীমা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করে নৌবাহিনী। বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে গবেষণার কাজও করছে তারা। নৌবাহিনীর সতর্ক উপস্থিতির কারণে বিশাল নৌসীমার সমুদ্র-সম্পদ নিরাপদ রয়েছে, যার সঠিক ব্যবহারে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরতে পারে।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন