সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের আবেদন করা হলেও এটি বাস্তবায়নের কোন অগ্রগতি নেই। এখানে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনে স্থানীয় এলাকাবাসী লিখিত আবেদনের প্রায় ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রস্তাবিত পান্ডারখাল বাঁধে ‘পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন’ এ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এই প্রস্তাবনাটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে। এটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না, এ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পান্ডারগাঁও, দোয়ালিয়া ও মান্নারগাঁও তিনটি ইউনিয়নের জন্য পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে তৎকালীন পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া অনু ও মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজের সার্বিক সহযোগিতায় লিখিত ওই আবেদনটি করা হয়।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের তৎকালীন ডিআইজি কামরুল আহসানের নির্দেশনায় একবার সরেজমিনে তদন্ত করা হয়। এরপর তদন্ত শেষে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আইজিপি কার্যালয়ে একটি প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়। ওই প্রস্তাবনায় তদন্ত কেন্দ্রের স্কেচ ম্যাপ, দোয়ারাবাজার থানার পাঁচ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান, প্রস্তাবিত তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের যৌক্তিকতা, তদন্ত কেন্দ্রের জনবল ও জমিদাতাদের স্বাক্ষরিত অঙ্গীকার নামা তুলে ধরা হয়। কিন্তু ওই প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রায় ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তা অজ্ঞাত কারণে বাস্তবায়ন করা হয়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, যে কোনো সময় এসব ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটনা-দুর্ঘটনা, সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বড় রকমের সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছতে অনেক বেগ পেতে হয়।
দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু বলেন, ‘সুরমা নদীর কারণে এই ৩টি ইউনিয়নের অবস্থান নদীর দক্ষিণ পাড়ে পড়েছে, যা থানার মূল ভূমি থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে এই ৩টি ইউনিয়নের জনসাধারণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।’
সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) রনজয় চন্দ্র মল্লিক বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বিষয়ে সর্বশেষ প্রায় ৩ মাস আগে দোয়ারাবাজার থানা থেকে আরও একটি লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়া যাবে’।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন