সম্প্রতি ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া না-হওয়া নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরই মধ্যে ২০১৭ সালের শেষের দিকে করা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতের ডাকা একটি সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সে সময় শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনের (অঞ্চল-৩) মহাখালী জোনাল অফিসে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন নিয়ে ওই সময় সালিস হয়। শাকিব উপস্থিত না হলেও অপু বিশ্বাসের উপস্থিতিতে শুনানি হয়।
ভিডিওতে সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের আজকের সালিস কেসে বিবাদী অপু বিশ্বাস উপস্থিত হয়েছেন। তার বক্তব্য দিয়েছেন। আসলে তিনি মীমাংসা করতে চান, তার স্বামী নিয়ে সন্তান নিয়ে ঘর–সংসার করতে চান। বাদী উপস্থিত হননি। সাধারণ একটি সাদা কাগজে একটি আবেদন পাঠিয়েছেন তিনি। কাজি অফিসের মাধ্যমে কোনো রেজিস্ট্রি হয়ে আসেনি এটি। কোনো কাবিননামা, কোনো সাক্ষী, কোনো হলফনামা নেই।’
এর পর থেকে শাকিব-অপুর বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া না–হওয়া নিয়ে প্রশ্ন সামনে চলে আসে। ভিডিওটি দেখে অনেকে ধারণা করছেন, তারকা দম্পতির তালাক হয়নি।
এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে অপু বিশ্বাস একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমিও ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। তারা এ বিষয়ে পরিষ্কার করতে পারবেন।
কিন্তু আপনি তো সেদিন উপস্থিত ছিলেন। আপনার মুখ থেকে এ বিষয়ে শুনতে চাই—এমন প্রশ্নে অপু বিশ্বাস বলেন, এটি একটি সেনসিটিভ ব্যাপার। আমি আগেভাগে বলতে চাই না। তবে আমরা যখন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম, তখন রাগের বশে না বুঝে অনেক কথা বলে ফেলেছিলাম, এ জন্য আমাকে ভুগতে হয়েছে। আমি আর ভুগতে চাই না।
তিনি বলেন, আমার মা–বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। আমি নতুন করে মা–বাবা পেয়েছি। শুধু স্বামী নয়, সন্তান, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুন্দর জীবন পার করতে চাই। তাই একটু সময় দিন আমাকে, সুন্দর সময়ে সুন্দর কথাগুলো বলব।
বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার আগে থেকেই সন্তানকে নিয়ে অপু বিশ্বাস আলাদা থাকেন। দুজন আলাদা থাকলেও সন্তান জয় প্রায় দিনই শাকিবের বাসায় সময় কাটায়। তবে বছরখানেক ধরে সন্তানের সঙ্গে অপু বিশ্বাসেরও শাকিবের বাসায় যাওয়া–আসা বেড়েছে।
আবার এরই মধ্যে নিউইয়র্কে ছেলেকে নিয়ে অপু বিশ্বাস শাকিব খানের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই অনেকে এ–ও বলছেন, তাদের বিবাহবিচ্ছেদই হয়নি।
কিন্তু অপুকে ডিভোর্স দেওয়ার চার মাস পরই চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। বুবলী নিজেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন গণমাধ্যমে। তাহলে কী বুবলী বিচ্ছেদের কাগজ না দেখেই শাকিবকে বিয়ে করেছেন? বুবলী কী এতই বোকা! এই হলো পেছনের ঘটনা।
এখন আসা যাক- এই সময়ের কথায়। পাঁচ বছর পর শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ হয়নি- এমন সংবাদ কেন ভাইরাল হচ্ছে! তাও আবার যখন তারা দুজনেই অবস্থান করছেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমন কথা রটানোর পেছনে বড় একটি কারণ হলো- অপু আর তাদের একমাত্র সন্তান জয়ের (শাকিব-অপু দম্পতির ছেলে) গ্রিন কার্ড পাওয়া! আমেরিকার অভিবাসন আইন অনুযায়ী- স্বামীর (শাকিব খান) গ্রিন কার্ড থাকলে স্ত্রীর তা (গ্রিন কার্ড) পেতে সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে স্বামী হিসেবে শাকিব অপুকে সহযোগিতা করতেই পারেন।
একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্রও বলছে, ‘শাকিব ও অপুর আইনত সম্পর্ক যেমনই হোক তারা দুজন আব্রামের মা-বাবা। দুজনই চান সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ। সে কারণে অপু ও জয়ের গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়াতে সহযোগিতা করছেন শাকিব।’
এসব কারণেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে- বিচ্ছেদ হয়নি শাকিব-অপুর! আর এ কথাকে সবার সামনে আনতে নেওয়া হয়েছে নানা কৌশলও। যাতে ‘স্বামী-স্ত্রী’ দেখিয়ে খুব সহজেই দেখা মিলে অপুর স্বপ্নের গ্রিন কার্ড!
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন