গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোগড়া উত্তরপাড়া এলাকায় এরশাদ নামে এক কসাইয়ের হত্যা মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জিএমপি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপ-কমিশনার আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শেরপুর জেলার উত্তরঘুনাপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে ইমরান মিশরী (৩৩), একই জেলার বুয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মোজাফর আলীর ছেলে মো. শাহ আলম (৩০), গাজীপুরের বাসন থানার ইটাহাটা কাশেম টেক্সটাইলের পাশের মো. মোস্তফা কামালের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫), ও কুমিল্লা জেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের হোসেনের ছেলে শাকিল (২৬)।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গত ২১ নভেম্বর মধ্যে রাতে ৯৯৯ ফোন পেয়ে বাসন থানার ভোগড়া উত্তরপাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে হাত কাটা অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে বাসন থানা পুলিশ। পরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ওই ব্যক্তি এরশাদ বলে শনাক্ত করে তার মা।
এ ঘটনায় নিহত এরশাদের মা বাসন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
এরই প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গেল বুধবার দুপুরে বাসন থানার ইটাহাটা এলাকায় সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি থেকে এরশাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইমরান হোসেন, শাহ আলম, শফিকুল ইসলাম ও শাকিল নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ধারালো চাপাতি, ১টি দা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন জানান, গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভিকটিম এরশাদের সঙ্গে তার টাকা পয়সা লেনদেন নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এরই জের ধরে গত ২১ নভেম্বর রাতে ইমরান হোসেন ভিকটিম এরশাদকে আসামি শাকিলের মাধ্যমে বাসন থানার ভোগড়া এলাকার স্থানীয় জয়নাল আবেদীনের পরিত্যক্ত জায়গায় ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে গ্রেপ্তারকৃত আসামী সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন এরশাদকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ পরিত্যক্ত জায়গার ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান জিএমপি উপ-কমিশনার আবু তোরাব মোহাম্মদ শামছুর রহমান।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন