ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক সেনাবাহিনী গড়তে মেধা ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বার্নাব্যু ডাকছে রদ্রিকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিশ্বরেকর্ড ‘রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারির মামলা করা যায় না’ কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিয়েভে ড্রোন প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১০ বঙ্গভবন ছাড়লেন সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ কোনো এক সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চীনে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী টাইফুন ‘নৌল’

তরুণ শক্তি থেকে জাতীয় প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রগঠনে বিএনসিসি

রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তরুণসমাজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা
  • আপলোড সময় : ৯ মে ২০২৬, সকাল ৯:৪০ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ মে ২০২৬, সকাল ৯:৪০ সময়
তরুণ শক্তি থেকে জাতীয় প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রগঠনে বিএনসিসি

রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তরুণসমাজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জেনারেশন জেড-এর রাজনৈতিক সচেতনতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সামাজিক সংগঠনের সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মত দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শিক্ষার্থী আন্দোলন তরুণদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দ্রুত জনমত গঠন ও সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা স্পষ্ট করেছে। এই শক্তিকে যদি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, তবে তা জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।


এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-কে কৌশলগতভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। লেখায় বলা হয়, বিএনসিসিকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে না দেখে এটিকে জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন ও যুব নেতৃত্ব বিকাশের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান, উগ্রবাদ, সাইবার হুমকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা এখন বহুমাত্রিক। এই পরিস্থিতিতে সচেতন ও প্রশিক্ষিত নাগরিক সমাজকেও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।


বিএনসিসির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের এনসিসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো উদাহরণ টেনে বলা হয়, অনেক দেশই যুবসমাজকে নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে গড়ে তুলছে। লেখায় আরও বলা হয়, বিএনসিসি সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ বিভিন্ন অঞ্চল ও পটভূমির তরুণরা একসঙ্গে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্য গড়ে তোলে।


এছাড়া নেতৃত্ব বিকাশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক চিকিৎসা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে বিএনসিসির ভূমিকা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে ভুয়া তথ্য ও সাইবার হুমকি মোকাবিলায় তরুণদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনসিসিকে কার্যকর করতে কিছু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক প্রশিক্ষণ কাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তৃতি, নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার ব্যবস্থাপনা।


সবশেষে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।


লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি আরবকে পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদন দিচ্ছেন ট্রাম্প

সৌদি আরবকে পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদন দিচ্ছেন ট্রাম্প