চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মার্কেটের চলাচলের পথে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও ইজারাদার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা দেলওয়ার হোসেনসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারের এ আলী শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী মো. সুমন, আব্দুর রহিম, ইকবাল কবির, সাইফুদ্দিন, শহিদ ও আলী হোসেন। আহত কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে চারজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের চলাচলের রাস্তায় দোকান বসানো নিয়ে কয়েক দিন ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ইজারাদার পক্ষের বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে ওই স্থানে দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। পরে বিকেলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ব্যবসায়ী আলী আহমেদ অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা নয়নের নেতৃত্বে কয়েকজন দুপুরে ওই স্থানে দোকান নির্মাণ করতে আসেন। ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে তারা সেখান থেকে চলে যান। পরে বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাকির আহমেদ ও যুবদল নেতা আজম খানের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালান। এতে সাত থেকে আটজন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাজারের ইজারাদার ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাকির আহমেদ। তার দাবি, বাজারের খালি জায়গায় তার পক্ষের কয়েকজন দোকান নির্মাণ করতে গেলে ব্যবসায়ীরা তাদের নির্মাণ করা দোকান ভেঙে দেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এদিকে সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আনোয়ারা উপজেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলওয়ার হোসেন নিজের ওপর হামলার অভিযোগ করেন।
দেলওয়ার হোসেনের দাবি, সংঘর্ষের স্থান থেকে কিছুটা দূরে আবুল হোসেন মার্কেট এলাকায় তিনি বসে ছিলেন। এ সময় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আকস্মিকভাবে তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাস্থল থেকে তিনি অনেক দূরে বসে ছিলেন। হঠাৎ তার ওপর হামলা করা হয় এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণ জেলা সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, দিনের বেলায় ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। সন্ধ্যায় দেলওয়ারকে একা পেয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তার ওপর হামলা করেন। তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নিতে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও জানান তিনি।তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবে মনে হচ্ছে না।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের মধ্যে দোকান বসানো নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক দুই পক্ষের মধ্যে হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন