ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ যখন কার্যকরভাবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভসের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় বিতর্ক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কতটা উপলব্ধি করে এসব কর্মসূচি দিচ্ছে, তা তিনি জানেন না। তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি অপেক্ষা করে থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী চর্চা, দুর্বল সামাজিক কাঠামো এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতির সংকট থেকে দেশকে বের করে একটি সঠিক গতিপথে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশের সংকট এত গভীর ছিল যে রাতারাতি কোনো অলৌকিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা এবং ভুল নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দেশকে বর্তমানে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি শুধু দুর্নীতির বিষয় নয়, বরং জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সাখাওয়াত হোসেন।
আলোচনায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, মানবাধিকারকর্মী শিরিন হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন