নিজের পরিচয় আড়াল করে অপকর্ম ও দুর্নীতিতে জড়ানো ব্যক্তিকেই সবচেয়ে বড় ‘গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পরিচয় গোপন রেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো ব্যক্তিরাই সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ছিনতাইয়ের সময় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হলে তারা বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা যায়—এমন দাবি করে তিনি বলেন, যারা পরিচয় লুকিয়ে অপকর্ম করে, তারাই প্রকৃত অর্থে ‘গুপ্ত’।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি ছিল জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি ছিল রাজনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য। একই ভোটারকে দুটি ভোট দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সেই রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। বিএনপিও সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ছয় মাস পার হলেও বিএনপি কি তাদের দেওয়া কথা রেখেছে?
জামায়াত আমির বলেন, তখন দেশের মানুষ বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। তারা চেয়েছিল দেশে আর স্বৈরাচারের উত্থান না হোক, আদালতে গিয়ে মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়, সন্তানরা মানসম্মত শিক্ষা লাভ করে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। তার দাবি, জনগণের প্রত্যাশা ছিল চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে। কিন্তু মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলোর কোনোটিই পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনির্বাচিত সরকারের সময়কার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান প্রশ্ন করেন, আগের সরকারের সময় মানুষ যে সুবিধা পায়নি, বর্তমান সরকারের সময় কি সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে? সমাবেশে তিনি দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, কোথাও গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই; বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি তেল ও জ্বালানি সংকটেও মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস, সংঘাত ও ছিনতাইয়ের ঘটনা চলছে। দলীয় প্রশ্রয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একটি পক্ষ এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও দাবি করেন জামায়াত আমির। সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় কার্যকর, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং দলীয়করণ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন