ঢাকা | |

সিকৃবিতে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক
  • আপলোড সময় : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়
  • আপডেট সময় : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়
সিকৃবিতে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিনে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়।


সোমবার দুপুরে পদত্যাগকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে পাঁচটি আবাসিক হলের প্রভোস্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং দুটি অতিথিশালার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা রয়েছেন। পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, পণ্য ও সরঞ্জাম কেনাকাটা এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তাদের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ করা হলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। পদত্যাগকারীরা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই সেখানে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি তাদের।


ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার কথা। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন পদত্যাগকারীরা। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক নিয়োগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আটজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের অধিকাংশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এ নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে।


পদত্যাগকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। পদত্যাগকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সদস্য বলে জানা গেছে। তবে তাদের তোলা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।


অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। নিয়োগ পাওয়া সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন এবং কোনো নিয়োগে অনিয়ম হয়নি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের