সরকারি উদ্যোগ ও বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির মাধ্যমে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা: সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে স্থিতিস্থাপক জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। এ খাত আর্থিকভাবে গভীর সংকটে পড়েছিল এবং কৌশলগতভাবেও কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী নীতিমালার কারণে দেশকে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক একটি ফাঁদের মধ্যে ফেলা হয়েছে। বিগত সরকার কৌশলগতভাবে দেশের জ্বালানি খাতকে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভর করে গড়ে তুলেছিল। এর ফলে তৈরি হওয়া সংকট জনগণ, শিল্প খাত ও বিনিয়োগের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উপদেষ্টা জানান, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে নতুন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামো নির্মাণ, পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন কূপ খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও কথা বলেন অধ্যাপক তিতুমীর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরই কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে কার্যক্ষম হতে পারে। তবে উৎপাদনের আগে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভিএলসি কার্গোর মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হলে দেশে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলেও জানান তিনি। সরকারি পর্যায়ে গ্যাস আমদানির নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে খোলা বাজারে এলপিজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নীতি স্বল্পমেয়াদি চিন্তা করে নির্ধারণ করা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থ, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতি নির্ধারণ করতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রকৃত অর্থ হলো সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা—উল্লেখ করে অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, একই সঙ্গে এমন স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে আর্থিক অস্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং বহিঃখাতের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন