ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় একসঙ্গে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ। একনেকের এক সভায় অনুমোদন পেয়েছে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প, যার মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রকল্প।
অনুমোদন পাওয়া তিন মেট্রোরেলের মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন-১, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত লাইন-৫ নর্দার্ন এবং গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত লাইন-৫ সাউদার্ন। এর মধ্যে জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন লাইন-১-এর সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। ২০৩৩ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এই রুটের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে ভূগর্ভস্থ। তবে মেট্রোরেলের দুটি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় আলোচনা। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, বিস্তারিত সমীক্ষার পর স্টেশনের অবস্থানসহ প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের পরিধি পরিবর্তিত হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, শ্রম ব্যয়, কর-ভ্যাট এবং ঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণেও ব্যয় বেড়েছে।
অন্যদিকে রেল যোগাযোগেও আসছে নতুন অধ্যায়। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ অনুমোদন পেয়েছে। ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কোচের ১৬ সেট বৈদ্যুতিক ট্রেন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি জয়দেবপুরে নির্মাণ করা হবে আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মশালা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে ব্যস্ত নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর করিডোরে রেল পরিবহনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ডিজেলনির্ভরতা, জ্বালানি ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে একনেকের সভায় মেট্রোরেল ও বৈদ্যুতিক ট্রেনসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এখন নজর থাকবে একটি বিষয়েই—এত বড় ব্যয়ের এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না। কারণ সময় যত বাড়বে, ততই বাড়তে পারে প্রকল্পের ব্যয়। আর সময়মতো কাজ শেষ হলে ঢাকার যানজট ও গণপরিবহনের চিত্রে কতটা পরিবর্তন আসে, সেটিই হবে দেখার বিষয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন