ঢাকা | |

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসি। শুধু প্রত্যাবাসন নয়, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে
  • আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২১ সময়
  • আপডেট সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২১ সময়
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসি। শুধু প্রত্যাবাসন নয়, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। বুধবার সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে মহাসচিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদ। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করা হয়।


বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন মেয়াদে ওআইসি মহাসচিবের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানানো হয়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় ওআইসি দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এ বিষয়ে ঢাকার পাশে থাকারও আশ্বাস দেন তিনি।


ওআইসি মহাসচিবের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশংসা করেন ওআইসি মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।


এ ছাড়া গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির—আইইউটির ভূমিকারও প্রশংসা করেন মহাসচিব। মুসলিম বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিদেশ সফরের অগ্রাধিকার তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে বলেও জানান তিনি।


বৈঠকে বাংলাদেশ ও ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ মনে করে, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে সদস্যদেশগুলো পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ, স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পর্যটন, সেবা খাত এবং উচ্চশিক্ষায় যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে মত দেওয়া হয়।


বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ওআইসি মহাসচিবের আন্তরিক মনোভাবের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদ। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সব মিলিয়ে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ওআইসির মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা পাওয়া গেল এই বৈঠক থেকে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে?

হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে?