ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শুধু বদলি নয়, পুলিশের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার ওসি বদলি এবং বিশেষ করে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চান, শুধু বদলি করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বদলি একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা। দায়িত্বে অবহেলা কিংবা কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বদলি করা হতে পারে। তবে বদলিই শেষ ব্যবস্থা নয়। এর পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম চলতে থাকে। এ সময় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হয়েছে এবং একাধিক সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং বিভাগীয় কার্যক্রমও চলছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাংবাদিকেরা এরপর জানতে চান, সাবেক এই ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ওসি মো. রাকিবুল হাসান। অডিওতে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, কর্মকর্তা পদায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও ওই অডিওতে করা হয়। তবে রাকিবুল হাসান পরে দাবি করেন, অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তভার পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে দেওয়া হয়।
এদিকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নতুন ওসি হিসেবে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের আদেশে এই পদায়ন করা হয়। অর্থাৎ, রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, বিভাগীয় কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাও চলছে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এই সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট ধরন কী এবং তা নিয়ে তদন্তে আর কী তথ্য পাওয়া যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন