ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
আরেকটি বিশ্বকাপে আবারও চ্যাম্পিয়ন স্পেন এমন সাইবার সুরক্ষা আইন করতে চাই যেন সমাজের সব মানুষ রক্ষা পায় জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরে: প্রসিকিউটর মিজানুল উচ্চপর্যায়ের সফর বাংলাদেশ-চীনের সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে: চীনের রাষ্ট্রদূত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস, বজায় থাকবে ভ্যাপসা গরম ট্রাম্পের চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পর বিশ্ববাজারে বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে গ্রিসের ইতিহাস হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দের দাবি ইরানের অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা এরদোয়ানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু

আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার ছক, ৭ দিন আগেই করা হয় পরিকল্পনা

একটি আইফোন, ছবি তোলা আর টিকটক বানানোর পরিচয়—শেষ পর্যন্ত যা গড়াল ১৩ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে। আদালতে
  • আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৯ সময়
  • আপডেট সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৯ সময়
আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার ছক, ৭ দিন আগেই করা হয় পরিকল্পনা

একটি আইফোন, ছবি তোলা আর টিকটক বানানোর পরিচয়—শেষ পর্যন্ত যা গড়াল ১৩ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে। আদালতে দেওয়া তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, হত্যার সিদ্ধান্ত নাকি ঘটনার দিন নেওয়া হয়নি; বরং আইফোন হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় এক সপ্তাহ আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে জবানবন্দির সব তথ্য এখনো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।


কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন এবং দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।


তিনটি জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, তার আইফোন নেওয়া এবং হামলার মূল ঘটনাক্রমে বেশ কিছু মিল পাওয়া গেছে। যদিও হত্যাকাণ্ডের সময় কে কোথায় ছিল এবং পরে কে কী করেছে—এসব বিষয়ে তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তুহিনের জবানবন্দি অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে তার পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে পরিচয় ছিল। তার বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো।


একপর্যায়ে অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তুহিন ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত এক কিশোরের লোভ তৈরি হয় বলে জবানবন্দিতে এসেছে। ঘটনার আগের শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছে তাদের মধ্যে দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তুহিনের দাবি।দোকানে কর্মরত কিশোরটির জবানবন্দিতেও ওই বৈঠকের কথা এসেছে। তবে সে হত্যার পরিকল্পনার মূল দায় তুহিনের ওপর দিয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আইফোনের জন্য তুহিনই অপ্রতিমকে মারার পরিকল্পনা করেন।


আরেক কিশোরের বক্তব্যেও প্রায় একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। সে জানিয়েছে, ঘটনার দিন বিকেলে তার এক বন্ধু তাকে জানায়, তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে। অর্থাৎ তিন জবানবন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল হলো—হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া হয়নি বলে তাদের বক্তব্যে এসেছে।


এরপর ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দিন বিকেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা সেখানে গিয়ে একত্রিত হয়। কিছু সময় গল্প ও আড্ডাও হয় বলে তিনজনের বক্তব্যে মিল রয়েছে। এরপর অপ্রতিমের আইফোন নেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফোনটি নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশও আগে জানিয়েছিল, অপ্রতিম নিজের আইফোন ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলে তুহিন বাধা দেন।


এরপর ঘটে হত্যার ঘটনা। তিন আসামির জবানবন্দিতেই এসেছে, প্রথম আঘাত করেন তুহিন। প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় মারা হয়। এরপর পাশে থাকা একটি কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে অন্য দুজনকেও তাকে মারতে বলা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েও তিনজনের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। তুহিনের বক্তব্যে আইফোনের প্রতি লোভের কথা এসেছে। আর এক কিশোরের জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা ছিল আইফোন বিক্রি করে পাওয়া টাকা ভাগ করে নেওয়া। অন্য কিশোরের বক্তব্যেও আইফোন বিক্রি করে টাকার ভাগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।


অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর কে কোন দিকে চলে যায়, সে বিষয়ে তিনজনের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে একটি বিষয়ে তাদের বক্তব্য মিলে যায়—অপ্রতিমের আইফোনটি শেষ পর্যন্ত তুহিনের কাছেই ছিল। তুহিনের জবানবন্দিতে তার বন্ধু মো. সিয়ামের কথাও এসেছে। তার দাবি, হত্যার পর বাসায় ফিরে তিনি সিয়ামকে ডেকে এনে পুরো ঘটনা জানান। পুলিশ পরে সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি; তবে ঘটনার কথা জানার পর তা গোপন করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সব বক্তব্য যে চূড়ান্ত সত্য—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বক্তব্য অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।


তিনটি জবানবন্দি পাশাপাশি রাখলে পূর্বপরিচয়, আইফোনের প্রতি লোভ, পরিকল্পনা, ছবি তোলার কথা বলে নির্জন স্থানে নেওয়া এবং এরপর হামলার মূল ঘটনাক্রমে বেশ কিছু মিল পাওয়া যায়। তবে কার ভূমিকা কতটা ছিল, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায়। যে বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে ১৩ বছরের অপ্রতিম বাসা থেকে বের হয়েছিল, সেই বিকেলই তার জীবনের শেষ বিকেল হয়ে যায়। এখন তার পরিবার, সহপাঠী ও স্বজনদের অপেক্ষা—তদন্তের মাধ্যমে পুরো সত্য সামনে আসবে এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় দায়ীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প