জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিভিন্ন বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া ভাষণ এবং অধিবেশনের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনের এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জন্য রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনের কথা জানানো হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এই সফর অবদান রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকালে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে আলোচনা হয়। তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়গুলো সম্পর্কে আলাদা করে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করেন। বঙ্গভবনের সরকারি জীবনীতে বলা হয়েছে, ২০ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। এরপর থেকেই রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গত কয়েক দিনেও তিনি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরেও ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কার্যক্রম। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির এই প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন