পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আনার নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটির বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেই ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের কাছে। মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
সাংবাদিকরা জানতে চান, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রভাব ছিল কি না। জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তাই সরকারের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসবে এবং এ নিয়ে দীর্ঘ কোনো বিলম্ব হবে না। অর্থাৎ রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং কয়েকটি চালানে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত চালান পিছিয়ে গেলেও পুরো সরবরাহ কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তির প্রভাব রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নও ওঠে ব্রিফিংয়ে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি মনে করেন না যে ওই চুক্তির কারণে রূপপুর প্রকল্পে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাত্র পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সামনে একাধিক বিকল্প খোলা রাখা প্রয়োজন। নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, জ্বালানি সরবরাহ, প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণসহ এই খাতে আরও অনেক বিষয় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের চুক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংকট থাকলেও বাংলাদেশ নিজের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। রাশিয়ার সঙ্গে যেমন যোগাযোগ রয়েছে, তেমনি চীন, ভারত, তুরস্কসহ প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশ সম্পৃক্ত থাকবে। অর্থাৎ রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে সাময়িক জটিলতা তৈরি হলেও সরকার এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট হিসেবে দেখছে না। এখন মূল নজর অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ আবার শুরু করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দিকে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন