একটা সময় খেলাধুলাকে শুধু পড়াশোনার বাইরের একটি কার্যক্রম হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু এবার সেই ধারণায় বড় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। স্কুলের মাঠ থেকে জাতীয় পর্যায়—খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন নয়, ভবিষ্যতে একজন শিক্ষার্থীর পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আর এই পরিকল্পনার কেন্দ্রেই রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খেলাধুলাকে আরও শক্তভাবে যুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী দিনে ক্রীড়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন জানান, শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলাধুলাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে ক্রীড়াকে সরাসরি যুক্ত করতে চায় সরকার।
অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী শুধু বইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার শারীরিক সক্ষমতা, প্রতিভা ও খেলাধুলার দক্ষতাকেও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এবারের গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়েছে বড় পরিসরে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দেশের প্রায় ৩০ হাজার স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়ে চারটি খেলায় অংশ নিয়েছে। খেলাগুলো হলো দাবা, হ্যান্ডবল, সাঁতার ও কাবাডি।
প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা পেরিয়ে এবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল রাউন্ডে। মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে অগ্রযাত্রা, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে খেলাধুলা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্রীড়াকে শিক্ষা ব্যবস্থার অনিবার্য উপকরণে পরিণত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন তারই একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শুধু স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতাতেই থেমে থাকতে চায় না সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। এই টুর্নামেন্টও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে—আগামী দিনে কি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা শুধু অবসর কাটানোর মাধ্যম থাকবে, নাকি এখান থেকেই তৈরি হবে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার নতুন পথ?
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্কুল পর্যায় থেকেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করা, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি জাতীয় ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবারের গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলাধুলাকে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে যুক্ত করার এই উদ্যোগ কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ক্রীড়াকে সত্যিই একটি সম্ভাবনাময় পেশার পথে নিয়ে যেতে পারে কি না।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন