আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাময়িকী দ্য আটলান্টিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর করা সম্ভব—এমন কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করতে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম কমানো এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে অগ্রগতির দৃশ্যমান প্রমাণ দেখানোর তাগিদ থেকেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিধি কতটা হবে, কোন কোন স্থাপনা বা সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই এই অভিযান চালাবে কি না—এসব বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে এখনো তীব্র আলোচনা ও মতবিরোধ চলছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে অথবা নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে পরিচালিত ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তার বক্তব্যে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত থাকলেও নতুন করে সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা ও দ্য আটলান্টিক।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন